শিপ্রার মামলা নেয়নি কক্সবাজার থানা

কক্সবাজার প্রতিনিধি : দুইজন পুলিশ সুপারসহ প্রায় দেড়শ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন শিপ্রা দেবনাথ, সিফাত ও তাদের নিযুক্ত আইনজীবী মাহাবুবুল আলম টিপু।

নিহত সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের অন্যতম সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে থানায় গিয়েছিলেন। তবে কক্সবাজার সদর মডেল থানা তার মামলাটি নেয়নি, এ বিষয়ে মামলা করতে রামু থানায় যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি শিপ্রা দেবনাথের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল।

তার পারসোনাল প্রোফাইল থেকে ও সেসব ডিভাইস থেকে চুরি করে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের দায়িত্বশীল অফিসাররাই ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন সেগুলো। তার নামে খোলা হয়েছে ফেক ফেসবুক আইডি, ইনস্টাগ্রাম। তার ব্যক্তিজীবনকে যারা অহনীয় করে তুলেছেন ভিন্ন ছবি ও বিভিন্ন ভিডিও তৈরি মাধ্যমে। তাদের প্রত্যেকের জন্যে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা দিয়ে ছিলেন। ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আত্মহননের কথা বলেন শিপ্রা, দিয়েছিলেন মামলার হুমকিও।

শিপ্রা দেবনাথ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইনজীবী মাহাবুবুল আলম টিপু ও সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাতসহ একটি সাদা প্রাইভেটকারে কক্সবাজার সদর থানার প্রধান ফটকে যান। গাড়ি থেকে একে একে নেমে সবাই থানায় ঢুকে ওসি খায়রুজ্জামানের অফিসে যান। রাত ১২টার দিকে তারা ওসির রুম থেকে বের হয়ে থানার প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এ সময় শিপ্রা ও সিফাত কোনো কথা বলেননি। তবে শিপ্রার আইনজীবী বলেন, শিপ্রাকে আটক করার পর তার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ডিভাইস (মোবাইল ফোন), পেনড্রাইভ নিয়ে গেছে। এগুলো থেকে তার ব্যক্তিগত ছবি, ‘জাস্ট গো’ তথ্যচিত্রের জন্য ধারণ করা ছবি আপত্তিকরভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেসহ ইউটিউব চ্যানেলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তবে কক্সবাজার সদর মডেল থানা তাদের মামলাটা নেয়নি। ওসি তাদের বলেছেন—যেহেতু শিপ্রাসহ পুরো টিমের ডিভাইস রামু থানা জব্দ করেছে তাই এই অভিযোগটা ওই থানায় দেওয়াই সংগত। তারা এখন বসে কথা বলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

মামলার ঘটনাস্থল কক্সবাজার দেখানোর কারণ সম্পর্কে আইনজীবী বলেন, যেহেতু শিপ্রা এখন কক্সবাজারের আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের জলতরঙ্গ রিসোর্টে অবস্থান করছেন তাই ঘটনাস্থল হিসেবে কক্সবাজারকেই দেখানো হয়েছে।

মামলার আসামি কারা, এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী টিপু বলেন, মামলায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এবং পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলীর নামও অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে।

সাংবাদিকরা শিপ্রার সাথে কথা বলতে চাইলে আইনজীবী বলেন, যেহেতু উনি (শিপ্রা) মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাই এখন কথা বলবেন না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আবার বসব। আমরা আগে মামলাটা ফাইল করি। এরপর তারা রাত ১২টার দিকে, প্রাইভেটকারে করে তারা আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের জলতরঙ্গ রিসোর্টে উদ্দেশে রওনা হন।