মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে মোদির বৈঠক, লকডাউন চায় মানুষ

অনলাইন ডেস্ক : আনলক ওয়ানে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে মঙ্গলবার থেকে টানা দুদিন দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে এক সমীক্ষায় উঠে আসে, দেশের ৪ বড় শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চায় সংক্রমণ আটকাতে অবিলম্বে আবার লকডাউন শুধু নয়, শাটডাউন ঘোষণা করা হোক।

কলকাতায় ২৫০০ জনের মধ্যে ৫২% নাগরিক চায় লকডাউন ফিরুক। অন্তত আরও একমাস সম্পূর্ণ লকডাউন কার্যকর হোক শহরে। এক অনলাইন সমীক্ষায় এমন দাবি করেছে। লোকালসার্কেলস নামে এক সামাজিক মাধ্যম কেন্দ্রিক সংস্থা এই সমীক্ষা চালিয়েছে। নাদির গোদরেজ, আরসি ভার্গব আর আনন্দ মাহিন্দ্রার মতো উদ্যোগপতিরা এই সংস্থার পরিচালন পর্ষদে রয়েছে। তাদের উদ্যোগেই সর্বাধিক করোনা সংক্রমিত ছটি রাজ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। যে তালিকায় দিল্লি, মুম্বাইসহ কলকাতা ও আহমেদাবাদ রয়েছে।

সমীক্ষার বিষয় ছিল, একদফা লকডাউন মেয়াদবৃদ্ধি প্রসঙ্গে নাগরিকদের অবস্থান কী! কলকাতার প্রায় ২৬৪৪ জনের মধ্যে ৫২% মনে করেন, অন্তত আর একমাস সম্পূর্ণ লকডাউন বিধি কার্যকর করা উচিত। এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল দিল্লির প্রায় ছ’হাজার জন। যাদের মধ্যে ৭৯% মনে করে সম্পূর্ণ লকডাউন প্রয়োজন। মুম্বাইয়ের ৬৪% মনে করেন লকডাউন জরুরি। চেন্নাইয়ের ৫২৩২ জনের মধ্যে ৬১% সম্পূর্ণ লকডাউনের পক্ষে।

সারা দেশে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, এই পরিস্থিতিতে চলতি আনলক ওয়ানে নতুন নিয়ম কী হওয়া উচিত, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজ এবং কাল আরও একবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ মঙ্গল ও বুধবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে হবে এই বৈঠক।

দিল্লির একটি সূত্র জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে যোগ দেবেন ১৭ জুন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেও বক্তা তালিকায় নাম নেই পশ্চিমবঙ্গের। সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, পাঞ্জাব, বিহার ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীরা বক্তার তালিকায় থাকলেও তাতে নাম নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতার।

উল্লেখ্য, এর আগে একাধিক বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসলেও সেখানে খুব কম কথা বলারই সুযোগ পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভও ব্যক্ত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তার নাম নেই বক্তার তালিকায়। এর আগে করোনাভাইরাস নিয়ে রাজনীতি করছে কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে এমনই অভিযোগ করেছিলেন মমতা। তার অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র করোনা-যুদ্ধে তাদের পছন্দের রাজ্যগুলির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কেউ পরামর্শ দিতেও বলছে না।