নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে নিম্নমানের রেশন বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক : মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৩২৮ জন। চিকিৎসক ছাড়াও করোনা কালের এই যুদ্ধে ফ্রন্টলাইনার্সে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও দেশ সেবায় প্রাণপণ বাজি রেখে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কাজ। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০৯ জন পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর পুলিশের সদস্যদের মনোবল ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ উর্ধতন কর্মকর্তাগণ রেশন বাবদ অধিক বরাদ্ধ দিয়ে খাবারের মান ঠিক রাখতে যেখানে কঠোর আদেশ দিয়েছেন সেখানে নারায়ণগঞ্জে নিম্ন মানের খাবার বিতরণ নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।

নারায়ণগঞ্জের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, পুলিশ লাইন থেকে প্রতিমাসের ন্যায় এবার রেশন আনতে গিয়ে দেখতে পাই নিম্নমানের রেশন দেয়া হচ্ছে । যেমন আটা খোলা বাজার থেকে ক্রয়ের পর একেকটি পলিথিনে মোড়কজাত করে বিতরণ করা হয়েছে। একই পন্থায় মুশুড়ির ডাল অত্যন্ত নিম্নমানের যা খোলা বাজারের সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, ঐ একই ধরণের ডাল খোলা বাজার থেকে ক্রয় করে পলিথিনে প্যাকেট করে দেয়া হচ্ছে । একই পন্থায় উৎকৃষ্ট মানের পোলাউয়ের চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে অতি নিম্নমানের খোলাবাজারের চাউল। জেলায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য ছাড়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হয়েছে একই ধরণের খাদ্য সামগ্রী। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বত্র।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গত কয়েক দিনের ব্যাপক অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের শত শত সদস্যের সাথে যোগাযোগ করলে সকলেই একবাক্যে বলেন, এতো নিম্নমানের খাবার আমরা কখনো পাই নাই। অথচ করোনার বর্তমান এই সময়ে আরো উৎকৃষ্টমানের খাবার দেয়ার কথা ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের কয়েকজন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রেশন নিয়ে পুলিশের অনেকেই প্রতিবাদ করায় তারা এখন হুমকির মুখে আছেন। চাকুরীতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এমন বিবেচনায় এখানকার বেশীর ভাগ পুলিশ সদস্যই চুপ রয়েছেন। এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।

পুলিশ লাইন থেকে পাওয়া রেশনের একটি বস্তা নিয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে হাজির হয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এক সদস্য বলেন, আমরা নিম্নমানের রেশনিং এর প্রতিবাদ করলে, নানাভাবে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে রেশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। রেশন ইন্সপেক্টর মিরানের কাছে এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের নানাভাবে হুমকি ধমকি দেন । তাই গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে উপস্থিত হয়ে এমন অনুপোযোগি রেশনের বিষয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও পুলিশের শত শত সদস্য। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের রেশন ইন্সপেক্টর মিরান মুন্সি মুঠোফোনে ৮ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আলাপকালে প্রতিবেদকে বলেন, এই রেশন তো ঠিকাদাররা দেন। আমি এ বিষয়ে তেমন মন্তব্য করতে পারছি না। তবে এই অভিযোগ গুলি আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ ভালো বলতে পারবেন।

রেশন ইন্সপেক্টর মিরান মুন্সীর সাথে মুঠোফোনে বক্তব্য গ্রহণের কিছুক্ষনের মধ্যেই পুলিশ বাহিনীতে খাবার সরবরাহকারী হাবিবুর প্রতিবেদকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বলেন, আমাদের ভোজ্য তেল তীর কোম্পানী থেকেই নেয়া। মুক্তিযোদ্ধা ও যে পুলিশ সদস্যরা এমন অভিযোগ তুলেছে তাদেরকে এসপি অফিসে খাদ্যের মান নিয়ে অভিযোগ করতে বলেন। নিতাইগঞ্জ অথবা অন্য কোন স্থান থেকে মোড়কজাত করা হয় নাই এই ভ্যেজ্য তেল। পরবর্তীতে রাত ৯টার পর কথা বলার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। পুলিশের এমন নিম্নমানের রেশনিং এর বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।