উত্তাল সাগর, যে উপকূল অতিক্রম করবে আম্ফান

অনলাইন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান একাধিকবার দিক পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান।

আবদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে, তাতে চট্টগ্রাম ও খুলনার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ রাতের দিকে বা বুধবার সকালে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় আম্পান।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় ব্যাপক সতর্কতা গ্রহণ করেছে কক্সবাজারের প্রশাসন। সেই সঙ্গে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সোমবার সারা দিন মহড়া দিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামাল হোসেন জানান, গতকাল রোববার ও আজ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েক দফ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ২৫টি মুজিব কিল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে ৫ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয় নিতে পারবে। সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় সেগুলোকে গতকাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে রাখা হয়েছে। কক্সবাজার শহরের বেশ কিছু হোটেলকেও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় এলাকার মানুষগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য যানবাহনসহ সবকিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ শাখা জানিয়েছে, পর্যাপ্ত খাদ্য ও শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান জানান, ৭১টি মেডিকেল টিম ও আটটি র্যা পিড রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাইন উল্লাহ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিরাপদভাবে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উখিয়া-টেকনাফের ৩৬টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। আজ সারা দিন এই বিষয়ে ক্যাম্পগুলোতে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছে জনপ্রতিনিধিরা।

মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ জানান, তার এলাকায় আজ বিকেল থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ যেন ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য তারা কাজ করছে।

এর পাশাপাশি, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলা করতে সিপিবি ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, সাগরের ঢেউগুলো বড় হয়েছে আগের চেয়ে। সাগর থেকে বেশিরভাগ মাছ ধরার ট্রলার ফিরে আসলেও এখনও অনেক ট্রলার ফিরে আসেনি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক।