ফতুল্লার অপরাধ সাম্রাজ্যের এখনো নিয়ন্ত্রক রাইটার শহিদ

স্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা থানার দারোগা বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যতটা না অপকর্ম করার সাহস না করে তার চাইতেও অধিকভাবে রাইটার শহিদ ওরফে বরিশাইল্লা শহিদ পুরো ফতুল্লার অপরাধ সাম্রাজ্য এক যুগেরও বেশী সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ করে দন্ডমূর্তের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাজারো অপকর্ম করেও দীর্ঘদিন যাবৎ থানার অনেক দারোগার মামলা ও মামলা সক্রান্ত নথি তৈরী করে দিয়ে এখন নিজেই নিজেকে দারোগা বা ওসি হিসেবে ফতুল্লায় প্রচার করে অতিষ্ঠ করে তুলেছে সাধারণ মানুষকে।
ফতুল্লার মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, তেলচোর ও পতিতাদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে দিতনের পর দিন ব্লাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার এমন ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের পর বর্তমানে সব মহলকে ম্যানেজ করতে মাঠে নেমেছে বরিশাইল্লা শহিদ ওরফে রাইটার শহিদ। এ ছাড়াও রাইটার শহিদের কয়েকজন রক্ষিতা দিয়ে অনবরত ফতুল্লার অনেককেই বিভিন্ন মামলা দিয়ে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও ফতুল্লার ভুক্তভোগী অনেকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাইটার শহিদ এক যুগেরও বেশী সময় যাবত ফতুল্লা থানার বিভিন্ন দারোগাদের মামলা লিখে দেয়ার কারণে ফতুল্লার সকল অপরাধীদের সাথে গভীর সখ্য গড়ে উঠলে রাইটার শহিদ পুলিশের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অপরাধে লিপ্ত হয়ে উঠে। মামলা সংক্রান্ত বিষয়েও বাদী ও বিবাদীদের পৃথকভাবে ডেকে এনে উভয় পক্ষের কাছ থেকে তদন্ত কর্মকর্তাদের অগোচরেই বিশাল বাণিজ্য করার অভিযোগে এবং জেলার সাবেক পুলিশ সুপার ড. খ. মহিদ উদ্দিনের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করার ঘটনায় গত বছর অসংখ্যবার রাইটার শহিদকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালায় এএসপি আজিম উল আহসান। অত্যান্ত ধূর্ত রাইটার শহিদ গ্রেফতার এড়ালেও তার অপরাধ সা¤্রাজ্য থেকে পিছু হটতে পারেন নাই। এখনো ফতুল্লা থানা এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষকে অর্থের লোভে এমন কোন অপকর্ম নাই যা সে করেন না । বরিশালের নিজ এলাকার স্বামী পরিত্যক্তা সুন্দরী নূপুরকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে এনে ব্লাক মেইলিংয়ের ব্যবসা শুরু করে রাইটার শহিদ। পতিতাদের দিয়ে অভিযোগ ও মামলা দায়েরের পর নিজেই কখনো ওসি, কখনো দারোগা পরিচয় দিয়ে পুলিশকে সাথে নিয়ে আটক বাণিজ্য করে আসছে দীর্ঘদিন যারৎ। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে পতিতা নূপুরকে দিয়ে অভিযোগ দায়েরের পর আড়াই লাখ টাকা নিয়ে তা মীমাংশা করে রাইটার শহিদ। এমন অসংখ্য ঘটনার পর আবার টার্গেট করে ফতুল্লার থানা এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করে। এরপর কাশিপুরের লোকজন পতিতা নুপুর আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় মূলতঃ ফতুল্লা থানার রাইটার শহিদই তাকে দিয়ে এমন কর্মকান্ড করিয়ে ফায়দা হাসিল করে বেড়াচ্ছে।
এমন ঘটনা নিয়ে সংবাদকর্মীরা শহিদের বক্তব্য চাইতে গেলে থানায় দাঁড়িয়েই প্যান্টের চেইন খুলে তদস্ত ইন্সপেক্টর শাহজালালের সামনেই অকথ্য ভাষায় মন্তব্য করলে রাইটার শহিদকে মারধর করে থানা থেকে বের করে দিলেও এখন থানার পাশে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে নানাভাবে অপকর্ম করে যাচ্ছে। এমন ঘটনার পর সংবাদ প্রকাশ হলে নানাভাবে রাজনীতিবিদ, আইনশৃংখরা বহিনীর সদস্য ও বিশেষ শ্রেণীপেশার লোকজনকে দিয়ে নানাভাবে রাইটার শহিদের অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, একজন রাইটার কি করে এতো কিছু করে তা আমি অত্যন্ত বুঝতে পারছি না ।  আমি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দেখি কি করা যায়।